Image description

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্তে প্রায় ১৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বস্তি পেলেও উদ্বেগ বাড়ছে বেসরকারি চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, আয় না বাড়লেও নতুন পে-স্কেলের কারণে বাজারে পণ্য ও সেবার দাম আরও বাড়তে পারে।

ইতোমধ্যে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চাপে রয়েছে সাধারণ মানুষ। রাজধানীর বাজারগুলোতে সরু চাল ৮৫-৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা এবং এক ডজন ডিম ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চিনির দাম বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা কেজি। মসুর ডাল ১৫০-১৬০ টাকা এবং ভোজ্যতেল ২০০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে। সবজির দামও বাড়তি।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়লে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু দেশের বড় অংশের মানুষের আয় অপরিবর্তিত থাকলে মূল্যস্ফীতির চাপ তাদের ওপর আরও বেশি পড়তে পারে। ফলে নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাওয়া ১৪ লাখ মানুষের বাইরে থাকা কোটি মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগও জরুরি।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি আয়বৈষম্য, দারিদ্র্য ও তারল্য সংকটসহ বিভিন্ন আর্থসামাজিক ঝুঁকি বাড়তে পারে। এসব মোকাবিলায় সরকারের আগাম পরিকল্পনা প্রয়োজন।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। জুনে এ হার ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও নিত্যপণ্যের উচ্চ দামের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরেনি।

নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন করা হবে। ভাতা দেওয়া শুরু হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হানের মতে, সরকারি কর্মচারীরা বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি পেলেও মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা দেশের অন্য মানুষদের জন্যও ব্যবস্থা নিতে হবে। পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, মূল্যস্ফীতি কমানো এবং টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা বাড়তি বেতনের সুবিধা পেলেও মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংকট আরও বাড়তে পারে। তাদের সুরক্ষায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

এসএস